One other important situation to look at prior to putting your cheapest cialis Tadalafil is the low-trade-name for Tadalafil and it is a quite popular dental therapy all around the world. 20mg cialis So youre sitting there with those concerns still buzzing in your face about why you have cialis 40mg The day-to-day Cialis dosage is usually recommended for men who are in tadalafil 10mg Most of the natural aphrodisiacs are derived from the ancient notion of supportive cialis black 800mg Cialis, viagra and Levitra are no appetiser on a menu you could make an order to match your style, at cheap cialis generic "Anyway I know that the tabloids are planning to say that I married Ali for his money. Kanye tadalafil 40mg Tadalafil is primarily known for the proven fact that it can perform faster in comparison to cheapest tadalafil 20mg Lack of Sex Push Normal male enhancement is safe and significantly more efficient compared to utilizing the buy cialis canada Have you been one of several thousands and thousands of ladies female cialis 5mg
সর্বশেষ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় উপ সম্পাদকীয় / নিরাপদ খাদ্য দাবি নয়, অধিকার-এস এম মুকুল

নিরাপদ খাদ্য দাবি নয়, অধিকার-এস এম মুকুল

আহা, কী ভয়ঙ্কর! এ কেমন সমাজে বাস করছি আমরা, যেখানে মানবতা ও মনুষ্যত্ব বোধ চরমভাবে লাঞ্ছিত। বিবেক যেখানে অর্থের কাছে সমর্পিত। আমাদের প্রিয় সন্তান, পিতা-মাতাসহ আপনজনদের সুস্বাস্থ্য আর সুস্থ্য ও উচ্ছল ভবিষ্যত কামনায় প্রতিদিন যেন বিষের পেয়ালা তুলে দিচ্ছি তাদের মুখে। যা ভক্ষণ করে আমরা তিলে তিলে খুন হচ্ছি; খুন হচ্ছে জীবনীশক্তি। আমাদের নৈতিক স্খলন কি এতই নীচে নেমে গেছে! বিবেক বলে কি আমাদের কিছুই নেই! তাহলে আমরা নিজেদের মানুষ দাবি করব কোন অধিকারে? লাভটাই কি আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়! আমরা কি খেয়ে আসছি এতদিন? কীভাবে বেঁচে আছি?  ভেজাল খাবারে বিষক্রিয়ার পরিণতির কথা ভাবলে মনে হয়-এভাবে খাবারে বিষ মিশিয়ে আমাদের তিলে তিলে না মেরে একসঙ্গে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলাও অনেক ভালো! সন্ত্রাসীরা যেভাবে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে জীবন কেড়ে নেয়- এই হত্যাকান্ড আর খাবারে ভেজাল মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়ার মাঝে কোনো তফাৎ আছে কি? অতএব যারা খাবারে বিষ মেশায় তারা মানুষ খুনি। তারা প্রজন্মের শত্রু! যারা খাদ্যদ্রব্যে বিষ মেশায় তাদেরকে শুধু জেল-জরিমানা নয়; সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান দিয়ে দ্রুত আইন চালু করা হোক। তাদেরকে সামাজিকভাবে এমন অপদস্ত করা হোক যাতে পরিবারে তাদের স্ত্রী সন্তান ও সহোদরেরাও যেন ধিক্কার দেয়।

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় ভেজাল খাদ্যের কারণে তারাই এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রে  ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য আরো ভয়াবহ। ভেজাল খাদ্যের কারণে তাদের মধ্যে চনমনে স্বভাবের অনুপস্থিতি, পড়ালেখায় মনোযোগ হ্রাস, শারীরিক দুর্বলতা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, অল্প বয়সে চোখের ব্যাধি, চশমা ব্যবহারসহ নতুন ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি অনীহাভাব চলে আসে। এতে করে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্বল ও মেধাশূন্য জাতি।এসব বিষাক্ত সবজি, ফলমুল, মাছ, দুধসহ অন্যান্য খাবার খেয়ে আয়ু কমছে আমাদের। ভেজাল খাবার খেয়ে শিশুদের নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পেতে পারে।  এসব খাওয়ার ফলে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছি আমরা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মেধাশূণ্য হতে পারে আগামী প্রজন্ম! অপরদিকে প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুদের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় বড়দের কিডনিতে তা ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে।

খাবার নিয়ে এখন মানুষের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সন্দেহ, আশঙ্ক ও আতঙ্কের যেন শেষ নেই। কারণ ভেজাল খাবারে মাদকের চেয়ে ভয়ঙ্কভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ অসংখ্য মরনব্যাধি। এমতাবস্থায় খাদ্যে ভেজাল আর বিষের ছড়াছড়ির আতঙ্ক নিয়ে দেশের জনগণ এখন হতবিহ্বল। এরই মধ্য দিয়ে ‘সুস্থ সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই’ এই শ্লোগানে পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সারাদেশে র‌্যালি, সেমিনারসহ নানান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্সে নীতি গ্রহণ করেছে।  যেকোনো মূল্যে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তিনি আরো বলেন, ‘শুধু সরকারি কর্মকর্তারাই নয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে দেশে বর্তমানে ৪৬৩টি সংস্থা কাজ করছে। ব্যবসায়ীরা ভেজাল খাদ্য যাতে সরবরাহ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার রেস্তোরাঁগুলোর মান অনুযায়ী গ্রেডিং করার কাজ শুরু হয়েছে। ’ বাংলাদেশে এখন প্রায় ১২টি মন্ত্রণালয় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর, সংস্থা, অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকারের প্রায় ৪৬৩টি প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া আমাদের যেসব খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আছে, তাদের ১২০টিরও বেশি আইন, বিধি, উপ বিধি, নীতিমালা ইত্যাদি রয়েছে। তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ খাদ্য ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে ১৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও ১০ লাখ পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তবে খাদ্য নিরাপদ রাখার বিষয়ে তাদের জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও ছয়টি মেট্রোপলিটন সিটিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য আইনে তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করে রূপকল্প ২০২১- ২০৪১ এর আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করবে সরকার।  তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হলেও খাদ্য নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সচেতন মহলের অভিমত হলো- ভেজালবিরোধী অভিযান সারাবছর অব্যাহত রাখা এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নাই। 

ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যের প্রভাবে দেশে এক ধরনের নীরব হত্যার মহামারী চলছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানোটা অনেক ব্যবসায়ীর কাছে রুটিন ওয়ার্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে দেখা যাচ্ছে- ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মত মরণব্যাধির ছোবলে অকালে জীবনও হারাচ্ছে দেশের জনগণ। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য বা খাবার যেমন জরুরি তারচেয়েও বেশি জরুরি হলো নিরাপদ খাদ্য। নিরাপদ খাদ্য কোনো দাবি নয়- সাংবিধানিক অধিকার। কারণ খাদ্য নিরাপদ না হলে সুস্থ্য, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবেনা। আর তা যদি না হয়- তাহলে উন্নত বাংলাদেশের চালকেরা দেশকে আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা  অনিরাপদ খাদ্য শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিরই কারণ না, বরং দেহে  নানান অসুখের কারণ। ভয়ঙ্কর খবরটি হচ্ছে-ভেজাল খাবার গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে সমাজের উচু-নিচু সকল শ্রেণির মানুষ। দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে অতি বিত্তবান কারোরই রক্ষা নেই ভেজালের প্রভাব থেকে। তাই এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায় অনিরাপদ খাদ্যের কারণে ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো দুই শতাধিক রোগের জন্য দায়ী। আরেক তথ্যে জানা যায়, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্র্রায় ৪৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট তিন বছরের খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ৫০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার ওলিংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের  যৌথভাবে গবেষণায় দেখা যায়, দেশের মোট খাদ্যের ৩০ শতাংশে ভেজালের উপস্থিতি রয়েছে। রাজধানী ঢাকার ৬৬ শতাংশ  হোটেলের খাবার, ৯৬ শতাংশ মিষ্টি, ২৪ শতাংশ বিস্কুট, ৫৪ শতাংশ পাউরুটি, ৫৯ শতাংশ আইসক্রিম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্তমান সময়ে জাতির জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ বিষয় সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। আর এটি করতে ব্যর্থ হলে জাতির জীবনে ভবিষ্যতে অন্ধকার নেমে আসবে।

যদিও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারও নিরলসভাবে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে বছরজুড়ে অভিযানের ধারাবাহিকতা ও নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এর কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে জনগণের নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং সেই লক্ষে একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে “নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩” প্রণয়ন করেছে। এই আইনটি ১  ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আমদানি পর্যায়ে অন্যান্য খাবার পরীক্ষার পাশাপাশি শিশুখাদ্য ও গুঁড়োদুধে সীসার মাত্রা নির্ণয় পরীক্ষা চালু করার চিন্তাভাবনা করছে। খাদ্যে ভেজাল দূরীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সরকারি বিভাগগুলো কাজ করছে। প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ভেজালরোধে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালানো হচ্ছে। আবার Bangladesh Standard and Testing Institute (BSTI)

খাদ্যে ভেজাল রোধে ২ ভাগে অভিযান পরিচালনা করছে। প্রথম পর্যায়ে BSTI জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট এবং ২য় পর্যায়ে সার্ভিলেন্স টিম পরিচালনার মাধ্যমে কাজ করছে।

নিরাপদ খাদ্য অভিযানের অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁগুলোর মান অনুযায়ী গ্রেডিং প্রথা চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেবল ঢাকার ৫৭টি রেস্তোরাঁকে এ ব্যবস্থায়  গ্রেডিং বা মান অনুযায়ী স্তর বিন্যাস করা হয়েছে। মান বর্ণনা অনুযায়ী, এ প্লাস মানে উত্তম, এ মানে ভালো, বি মানে গড়পড়তা বা মোটামুটি এবং সি মানে- অনিরাপদ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হোটেল এবং রেস্তোরাঁর মান অনুসারে স্টিকারের নাম দিয়েছে। এ প্লাসকে সবুজ, এ গ্রেডকে নীল, বি গ্রেডকে হলুদ এবং সিগ্রেডকে কমলা রংয়ের স্টিকার  দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এসব হোটেলকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। মাদকের চেয়েও ভয়ঙ্কর হচ্ছে ভেজাল খাবার। কেননা মাদক- যার প্রয়োজন যে সেবন করে। আবার তাদের প্রভাবে অন্যরাও আসক্ত হয়। এভাবে মাদকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে। কিন্তু খাদ্যে ভেজাল তারচেয়েও ভয়ঙ্কর। কারণ, বেঁচে থাকার জন্য আমাদের খেতেই হবে। আর খাবার সবার জন্য প্রযোজ্য। একারণে খাবারে বিষয় বা ভেজালের ক্ষতি সমাজের জন্য মাদকের চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ বাজারে যেসব খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হয় তার মধ্যে কত প্রকারের খাবার ও খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে ভেজালবিরোধী অভিযানের সংবাদে জানা যায় রাজধানীর খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও নকল ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে সাধারণ খাদ্যদ্রব্য চাল, ডাল, আটা, মুড়ি থেকে শুরু করে শিশু খাদ্য গুঁড়ো দুধ, পাস্তুরিত তরল দুধ, দই, আইসক্রিম, চকলেট, জুস, জেলি, কোল্ডড্রিংকস, মিষ্টি, ঘি, হোটেলের খাবার, ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, মুরগি, ওষুধ, জর্দা, খাবার ওরাল স্যালাইন, ভোজ্যতেল, বেকারির খাদ্যসামগ্রী ও বিদেশি কসমেটিকসহ শতাধিক রকমের পণ্যসামগ্রীতে ভেজাল খুঁজে পেয়েছেন। ডাই ব্যবহার করার ফলে নুডলস ও বিস্কুট মচমচে থাকে এবং স্যাঁতসেঁতে হয় না। দেশের অধিকাংশ খামারে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ও খাবার সোডা। এরফলে গরু দ্রুত মোটাতাজা হলেও এর মাংস মানুষের শরীরে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও লিভার ও কিডনি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। পাবলিক হেলথ ইন্সটিটিউটের পরীক্ষকদের মতে, বিষাক্ত নকল ট্যাং ও চকোলেট খেলে শিশু বা বয়স্ক যে কোনো মানুষের দ্রুত কিডনি নষ্ট, ক্যান্সার, লিভার ব্যাধি, দীর্ঘমেয়াদি পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, শিশুদের হার্টের রোগ ও দৃষ্টিশক্তিও হ্রাস পেতে পারে। চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারকে সুস্বাদু করতে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার মানুষের শরীরের জন্য বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে গর্ভজাত শিশু বিকলাঙ্গ এমনকি গর্ভপাতও হতে পারে।

দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রীর অবাধ ব্যবহারে বছরে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন মরণব্যাধি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে দেশে মরণব্যাধি মহামারী আকার ধারণ করবে বলে তাদের আশংকা। কিডনি, লিভার, শিশু, গাইনী ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সময় থাকতে ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

এক তথ্যে জানা যায়, বাজারে প্রচলিত পণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর শতকরা ৯৬ ভাগই বিষাক্ত এবং খাবার অযোগ্য। তাহলে কি খেয়ে বেঁচে আছি আমরা! পত্রিকার খবরে জানতে পারি,  প্রতিবছর দ্বিগুণ হারে হাবা-গোবা ও বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী। গর্ভাবস্থায় বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী খাওয়ার কারণে মা ও তার পেটের সন্তানটি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৯৯ ভাগ। দেশে বছরে ২ লাখের অধিক লোক নতুন করে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে (সূত্র:বারডেম)। ডায়াবেটিস রোগী ব্যাপক হারে বৃদ্ধির জন্য ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত। কিডনি বিশেষজ্ঞদের মতে- ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত রঙ মেশানো লাল আটা, চাল ও আলুসহ নানা ধরনের লোভনীয় ফাস্টফুড এ রোগের প্রধান উৎস।

আমরা এখন কি করব? খেয়ে পড়ে তো আমাদের বাঁচতে হবে। এখন বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতার। ভেবেচিন্তে, বুঝেশুনে খেতে হবে। বাহিরের খাবার যথাসম্ভব কমিয়ে এবং এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো। ফাস্টফুড যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। যতটা সম্ভব বাসায় তৈরি খাবার খেতে হবে। আর সবিনয় অনুরোধ আপনার সন্তানকে বাজারের কেনা খাবার না দিয়ে বাসায় তৈরি করে খেতে দিন। এতে অন্তত ভেজালের মারাত্মক দূষণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন। ব্যবসায়ী সমাজ, উৎপাদনকারী এবং বিক্রেতাদের সচেতন করতে হবে যে, এই কাজটি একটি বড় রকমের অন্যায়, পাপ এবং এটি একটি রাষ্ট্রীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে, কৃষকরা যেন কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে অথবা কম ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়। নিজে বাঁচতে এবং প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে এখন থেকেই প্রয়োজন জনসচেতনতার সৃষ্টি, সরকারি উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। তবে ভেজালকারীদের কাছে একটি প্রশ্ন, আপনি যে জিনিসটায় ভেজাল মেশাচ্ছেন এর বাইরে বাকি সব জিনিস আপনিও তো কিনে খাচ্ছেন, তাহলে আপনি কতটা নিরাপদ? কতটা নিরাপদ আপনার সন্তান?

লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক। ইমেইল : writetomukul36@gmail.com,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।