One other important situation to look at prior to putting your cheapest cialis Tadalafil is the low-trade-name for Tadalafil and it is a quite popular dental therapy all around the world. 20mg cialis So youre sitting there with those concerns still buzzing in your face about why you have cialis 40mg The day-to-day Cialis dosage is usually recommended for men who are in tadalafil 10mg Most of the natural aphrodisiacs are derived from the ancient notion of supportive cialis black 800mg Cialis, viagra and Levitra are no appetiser on a menu you could make an order to match your style, at cheap cialis generic "Anyway I know that the tabloids are planning to say that I married Ali for his money. Kanye tadalafil 40mg Tadalafil is primarily known for the proven fact that it can perform faster in comparison to cheapest tadalafil 20mg Lack of Sex Push Normal male enhancement is safe and significantly more efficient compared to utilizing the buy cialis canada Have you been one of several thousands and thousands of ladies female cialis 5mg
সর্বশেষ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় উপ সম্পাদকীয় / সংকটে নৈতিক শিক্ষা- মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন

সংকটে নৈতিক শিক্ষা- মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন

মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণেই কিছু না কিছু শিখে থাকে। মানুষের জানার আগ্রহ স্বভাবগত। হাজার বছর ধরে পূর্বপুরুষদের আহরিত ও সঞ্চিত জ্ঞান ধারণ করে এ পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মানুষকে নিরন্তর গবেষণা ও সাধনা করতে হয়। তাই মানুষ প্রতি ক্ষণই শিখতে চায়। জগতে শেখার যেমন কোনো শেষ নেই, তেমনি শিক্ষা গ্রহণেরও কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। মানুষ সারা জীবন পরিবার, সমাজ, বিদ্যালয় নানা ক্ষেত্র থেকে শুধু শিখেই যায়।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম। রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা, উপবৃত্তি কিংবা বিনা পয়সায় খাবার ইত্যাদির কথা না ভেবে বেশিরভাগ মানুষ এখন নিজের তাগিদেই সন্তানকে শিক্ষাদানের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করতেও কার্পণ্য করেন না। প্রত্যেক বাবা-মা এখন তাদের সন্তানকে নামিদামি ও ভালো স্কুলে পড়াতে চান। ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে সক্ষম এমন কোনো বাবা-মাকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না, যারা তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। প্রতিটি পরিবারেই এখন শিক্ষার ক্ষুধা জাগ্রত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাজেটেও শিক্ষা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। রাষ্ট্র এখন শিক্ষার পেছনে ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
সমাজের প্রতিটি স্তরেই শিক্ষার ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কিছু কথা থেকেই যায়। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের পেছনে এই যে এত অর্থ, শ্রম ও মেধা ব্যয় করছি, রাষ্ট্রের ভাষায় বিনিয়োগ করছি, তার থেকে আমরা কতটুকু আউটপুট পাচ্ছি? তার সফলতাই বা কতটুকু? আমরা এসব কীভাবে নির্ণয় করব? শিক্ষার সঙ্গে টাকার তুলনা করতে চাই না। তবে অর্থ অবশ্যই একটি সুন্দর জীবনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। তথাপিও অর্থকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে পরিমাপ করতে চাই না।
জন্মগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মানুষ অত্যন্ত দুর্বল একটি প্রাণী। কিন্তু বুদ্ধিমত্তায় সে শ্রেষ্ঠ। অন্য প্রাণী থেকে আলাদা। মানুষ নিজে একা তার চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে না বিধায় সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। আর এ সহযোগিতামূলক মনোভাবই সমাজে নিয়ে আসে শান্তি। সামাজিক শান্তি যাতে বিঘিœত না হয়, তার জন্য আছে রাষ্ট্র, আইন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রত্যেক মানুষকেই রাষ্ট্রের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে পারিবারিক-সামাজিক শান্তি বজায় রেখে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, জীবনযাত্রাকে অধিকতর সুন্দর করে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, সব এলাকাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে, শিক্ষার উপকরণ বাড়ছে, শিক্ষার ওপর গবেষণা বাড়ছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক, জুয়া, খুন, ধর্ষণ, হত্যার মতো নানা রকম জঘন্যতম সামাজিক অপরাধ। সন্তানের হাতে মা-বাবা এবং মা-বাবার হাতে সন্তান খুনের মতো ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে। আবার এসব কাজ কেবল অশিক্ষিতজনরাই করছে তা কিন্তু নয়। বরং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের দ্বারাই এসব কাজ সংঘটিত হচ্ছে বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। ঐশী নামের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে মেয়েটি তার বন্ধুদের সহায়তায় নিজের পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ও মাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করল, তার দায় কি বর্তমান শিক্ষার ওপর একটুও বর্তাবে না? ঐশীর বাবা মেধাবী ছাত্র ছিলেন বলেই পুলিশ ক্যাডার হতে পেরেছিলেন। আর একজন ক্যাডার কর্মকর্তা তার মেয়েকে নিশ্চয়ই নিজের চেয়ে অনেক বড় মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, স্নেহের সন্তানের হাতেই বাবা-মা খুন হলেন! এটা কি স্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিলেন তার বাবা-মা? বনশ্রীতে ফুলের মতো দুই শিশুসন্তানকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করলেন তাদেরই জন্মদাত্রী মা। এমনটা অতীতে কোথায় কোন সমাজে দেখা গেছে সে ইতিহাস জানা মুশকিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে। কোমলমতি শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এ ধরনের আদিম পৈশাচিক বর্বরতা থেকে। কতটা নিু পর্যায়ে নেমে গেলে একজন শিক্ষক তার মেয়ের মতো ছাত্রীর দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাতে পারেন! ছাত্রদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও কম নয়। নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে না দেয়ায় সন্তানের ওপর বাদশাহ আলমগীরের রাগান্বিত হওয়ার যে ঘটনা আমরা পুস্তকে পড়েছি, আজ কোথায় সেই ছাত্র ও শিক্ষক?
অফিস-আদালতে ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়া, রাষ্ট্রের উন্নয়নের সিংহভাগ অর্থ আমলাদের পকেটে ঢোকা, ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানিসহ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, জঙ্গিপনা- এসব বড় বড় অপরাধের সবই এখন শিক্ষিতদের দখলে। রাস্তাঘাটে যানবাহনে অশিক্ষিত/নিরক্ষর সাধারণ মানুষকে প্রায়ই দেখা যায়, অন্য যাত্রীকে পাশে বসার জায়গা করে দিতে। অথচ সমাজের শিক্ষিত নামধারী সভ্য মানুষের বেলায় ঘটে তার উল্টোটা। শিক্ষিত মানুষজন অনুনয়-বিনয় করে পাশে বসতে পারলেও কোনো খেটে খাওয়া ঘর্মক্লান্ত কুলি, মজুর তাদের পাশে বসতে গেলে সৃষ্টি হয় নানা অজুহাত ও টালবাহানা। বয়স্ক মানুষ, এমনকি অনেক রোগীকেও যানবাহনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই যে নিরীহ কৃষক-শ্রমিক যাদের শ্রমে-ঘামে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে, তারা আজও সমাজের পদে পদে বঞ্চিত-অপমানিত। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তাদেরও সম্মান দিতে শেখায় না।
তাহলে একটি প্রশ্ন তো জাগতেই পারে। আমরা এত টাকা ব্যয় করে শিক্ষার নামে যা অর্জন করছি, তা কি শুধু সার্টিফিকেট নামের আবর্জনা? এ শিক্ষা না পারছে কোনো কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে; না পারছে নৈতিক গুণসম্পন্ন সুন্দর মানুষ উপহার দিতে। এ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করে। পুঁজিবাদী সমাজে সব ক্ষমতা এখন সমাজের শিক্ষিতজনের হাতে। অশিক্ষিত মানুষ ভাগ্যের জোরে বড় কিছু হতে পারলেও তাকে নির্ভর করতে হয় শিক্ষিত লোকদের ওপরই। প্রশাসন, আইন সবকিছু শিক্ষিত লোকদের হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন সমাজে নৈতিক পরিবর্তন নেই। তা নতুন করে ভাবার এখনই সময়। না ভাবলে যা হওয়ার তাই হবে। কারণ প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
নিরক্ষর শ্রেণীর অপরাধ শুধু লেখাপড়া না জানা। আর এ না জানার পেছনেও আছে শিক্ষিত শ্রেণীর অপরাধ। মানব জীবন যেহেতু স্বল্পকালের, তাই নৈতিক শিক্ষার জন্য আলাদাভাবে সময় বের করা অত্যন্ত কঠিন। তাই বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফলে শিক্ষকতা পেশাতেও অনেক অযোগ্য নীতিভ্রষ্ট লোকের আগমন ঘটেছে। তাদের যেহেতু একেবারে কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলার সুযোগ নেই, তাই সবার মধ্যে বিবেকবোধ জাগ্রত করে তোলার প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে মানবতার শিক্ষা দিতে হবে। মানবতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের দেশকে, দেশের মানুষকে, সর্বোপরি এ পৃথিবীটাকে ভালোবাসার শিক্ষা দিতে হবে। একসময় আমরা পড়তাম, পানির অপর নাম জীবন। এখন বলা হয়, বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও স্লোগান পরিবর্তন করা দরকার। যুগ যুগ ধরে আমরা পড়ে আসছি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু সে শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই এখন আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। যে শিক্ষা সৎ ও আদর্শবান মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না তা শিক্ষাই নয়। এখন বলতে হবে, সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তাই সমাজের সর্বস্তরে সুশিক্ষার বীজ রোপণ করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় পাস নয়, শিক্ষার্থীর হৃদয়-মন যাতে সুন্দর হয়, জাতীয় চেতনা ও মানবতাবোধে উজ্জীবিত হয়; সে দিকে লক্ষ্য রেখে সিলেবাস প্রণয়ন ও পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। আদর্শবান শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। এ জন্য জাতীয় স্বার্থেই আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন : কলেজশিক্ষক
hafizuddin.net@gmail.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।